মাইদুল হাসান ঃ- জলঢাকার কালিগঞ্জ বধ্যভূমি যেখানে ঘুমিয়ে আছে ৪ শত শহীদসনাতন সম্প্রদায়ের সিংহভাগ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের আংশিক শিশু কিশোর আবাল বৃদ্ধা বনিতাদের ধরে সারিবদ্ধ ভাবে দার করিয়ে নির্মম ভাবে গুলি করে গনহত্যা চালায় জালিম পাক হানেয়া বাহীনিতাদের ওই নিষ্টুর বর্বতার কালের সাক্ষী হয়ে আছে উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু কালিগঞ্জ বাজারের ডোমার ডিমলা রোড মহাসড়কের দক্ষিন দিকে অবস্থিত জলঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একমাত্র কালিগঞ্জ বধ্যভূমিটি৪ শত তরতাজা শহীদ প্রানের বিনিময়ে অর্জিত এই বধ্যভুমিটি আজ অবহেলায় অযত্নে ময়লার স্তূপ হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছেঅথচ ১৬ই ডিসেম্বর কিংবা মহান দিবসসহ রাষ্টীয় কর্মসূচী পালনে কদর বারে এই সকল সৃর্তি বিজরিত শহীদ বধ্যভূমি গুলোরকর্মসূচীও শেষ ! এই সকল শহীদ বধ্যভূমির কদরও শেষ ? পরের দিন থেকে চলবে এই সকল বধ্যভূমিতে সচারচার চলাফেরা " হবে মলমুত্র ত্যাগের অভয় নগর " গড়ে উঠবে ভ্রাম্যমান মাংসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান " দুর পাল্লার যানবাহনের টিকিট কাউন্ডার ও বাজারের ময়লা আাবর্জনার স্তূপ এবং সুষ্ঠ তদারকি না থাকায় গাছপালার শুকনো পাতার সমাহারহে এটি কোন কল্প কাহিনী নয় পুরোটাই বাস্তব ? এ চিত্র চোঁখে পরবে নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়নে কালিগঞ্জ বাজারে অবস্থিত একমাত্র শহীদ বধ্যভূমিটি গেলেপৌর শহর থেকে মাত্র ৮ কিঃ মিঃ দুরে অবস্থিত এ শহীদ বধ্যভূমিটি কিন্তূ দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে উক্ত স্থানে দাড়িয়ে থাকার মত কোন পরিবেশ নেই মানুষের মলমুত্র ' মাংসের মল ময়লার স্তূপের গন্ধে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য আপনি ? কালিন ১৯৭১ সালে এই বর্বরতার প্রত্যক্ষদর্শী শহীদ হেমন্ত শীলের পুত্র কমলা কান্তরায় শীল ( ৫৭ ) অশ্রু ভেজা নয়নে যুগের আলোকে বলেন যেদিন এই জঘন্যতম নিষ্টুর বর্বরতার গনহত্যা চালায় পাক হানেয়া বাহিনী সেদিন ছিলো ২৭শে এপ্রিল সোমবার সকাল থেকেই আমাদের পরিবারের ৭/৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল প্রান ভয়ে এ গ্রাম থেকে ও গ্রামে ছুটাছুটি করে বেড়াচ্ছি এক সময় আমরা বালাগ্রাম ইউনিয়নে একটি বাঁশ ঝাঁড়ের মাটির নিজে আশ্রয় নেই এবং সেখান থেকে মনস্থ্য করি প্রান বাচাঁতে হলে সকলে দর্শনার্থী হয়ে ভারতে প্রবেশ করবোতাই চুঁপিসারে পথ চলে থাকি কিন্তূ ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাশ কালিগঞ্জ বাজার প্রবেশ করতেই ডোমার থেকে আশা পাকিস্থান বাহিনীর ৭ টি টহল গাড়ির সৈন্যরা আমাদের আটক করে এবং তক্ষানিক সময়ে যুবক বৃদ্ধাদের সারিবদ্ধ ভাবে দার করিয়ে ও শিশু মহিলাদের পৃথক ভাবে রেখে যুবক ও বৃদ্ধাদের গুলিকরে গনহত্যা চালায় নিষ্টুর পাকিস্থানীরাএ সময় আমি শিশুদের দলে থাকায় প্রানে বেঁচে যাইতবে বাবা " কাকা ও বড় ভাইদের চোঁখের সামনে ছটফট করতে করতে প্রান দিতে দেখেছিসে কথা ভাবতেই শরির শিউরে উঠে এখনোওই সময়েই যুবকের দলে থাকা প্রানে রক্ষা পাওয়া পঙ্গুত্ব বহনকারী অমল অধিকারী ( ৬৮ ) যুগের আলোকে বলেন পাক বাহিনীর সৈন্যরা যখন সারিবদ্ধ করে দার করিয়ে এলোপাথারী গুলিবর্ষন আরাম্ভ করে তখন গুলি খেয়েই আমি পিছনের একটি মাটির গর্তে পরে যাই এবং ঞ্জান হারিয়ে ফেলিঞ্জান ফিরে আসলে দেখি আমার সারা শরিরে কাঁদামাটিতে পরিপূর্ন্য উঠতে গিয়ে দেখি আমার পাঁ আর উঠে না বুঝতে পারলাম যে পাঁয়ে আমার গুলি লেগেছে পরে আমার গোংঙ্গানীর শব্দ সুনে কোন এক লোক এসে আমায় মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করেপরে পাঁ থেকে গুলি মুক্ত করে সুস্থ্য হইঅমল অধিকারী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন ১৯৭১ সালের ১৮ই ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমবেদনার স্বীকৃর্তি স্বরুপ তকালিন প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ১ বান্ডিল ঢেউটিন ও দুই হাজার টাকা পেয়েছিলাম এটিই ছিল আমাদের শহীদ পরিবারের প্রতি স্ব-শ্রোদ্ধাআর স্বাধিনতার ৪৫ বছর অতিক্রম হলেও আমাদের খবর কেউ রাখেনিঅনুসন্ধানে জানা যায় জাতিয় সংসদের তকালিন চিফ হুইফ আব্দুর রউফ সরকার এই কালিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী স্থানটি পরিদর্শন করে এটিকে শহীদ বধ্যভুমি হিসাবে স্বীকৃর্তি দিয়ে একটি মাইল ফলক উম্মোচনের শুভ উদ্ধোধন করেনতার পর থেকে উক্ত শহীদব্যধিতে রাষ্টিয় বিভিন্ন দিবস পালনে শ্রোদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেই দায় শেষ করেন স্থানীয় সচেতন মহলআর এ সব দৃষ্টিগোঁচর করে নিরবে চোঁখের অশ্রু ঝড়ায় শহীদ পরিবার গুলোশ্রোদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করতে এসে স্থানীয় সরকারের উচ্চ পদস্থ্য কর্মকর্তারা এই ঐতিহ্যবাহী শহীদ বধ্যভুমিটির উন্নয়নের কথা ব্যক্ত করলেও বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয় না ঠিক এমনটাই দাবী শহীদ পরিবার গুলোরএই বধ্যভুমিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের মুরালী তৈরীর মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রোদ্ধা নিবেদিত করা হবেএই আশার বানী স্থানীয়রা শুনছেন স্বাধিনতার ৪৫ বছর থেকেকিন্তূ বাস্তবে কার্যকারী কোন পদক্ষেপ নেইবর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি বধ্যভুমিকে ডিজিটালে রুপান্ত্রিত করলেও জলঢাকার একমাত্র বধ্যভুমিটির কার্যকারী কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনিএ নিয়ে উদাসিহীনতায় রয়েছেন শহীদ পরিবার গুলোতাদের প্রশ্ন একটাই আদৌ কি এই বধ্যভুমি আলোর মুখ দেখবে নাএ বিষয়ে স্থানীয় এমপি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন দলিয় নেতা কর্মী ও শহীদ পরিবার গুলোকে সঙ্গে নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুরালি তৈরীর বন্ধবস্ত্য করা হবেসেই সঙ্গে তিনি বধ্যভুমিটি সংরক্ষনে স্থানীয়দের সচেতন থাকার আহবান জানিয়ে বলেন এই বধ্যভুমি কালের সাক্ষি এটিকে স্ব-যন্তে রাখার দ্বায়িত্ব আপনার আমার এবং সকলের

মন্তব্যসমূহ