মুক্তিযোদ্ধাদের অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন 

মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ, ক, ম, মোজাম্মেল হক









আবেদ আলী, স্টাফ রিপোর্টার ঃ
নীলফামারীর জলঢাকায় জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যানকে অতিথি করায় মুক্তিযোদ্ধাদের অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ, ক, ম, মোজাম্মেল হক। পরে এমপি গ্রুপ ও সভাপতি গ্রুপের  মধ্যে সংঘর্ষে ১ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে। জামায়াত সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ আলীকে অতিথি করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল হক প্রধানকে রাগন্বিত হয়ে মন্ত্রী জিজ্ঞেস করেন মুক্তিযোদ্ধার অনুষ্ঠানে জামায়াতের লোক কেন? এর কোন উত্তর না পেয়ে এক সময় অনুষ্ঠানস্থল বর্জন করেন মন্ত্রী। এ সময় নেতাকর্মীরা মন্ত্রীকে অনেক অনুরোধ করেও ফেরাতে পারেনি। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স উদ্বোধন উপলক্ষে দুপুরে জলঢাকায় আসেন মন্ত্রী। প্রথমে নবনির্মিত ভবনের ভিতরে মন্ত্রী আ,ক,ম, মোজাম্মেল হক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে শুরু হয় মতবিনিময় সভা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, জেলা আ’লীগ সভাপতি দেওয়ান কামাল আহম্মেদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কাউন্সিল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সরকার ফারহানা আক্তার সুমি, জেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা সুলতানা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফজলুল হক, জলঢাকা উপজেলা আ’লীগ সভাপতি আনছার আলী মিন্টু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হামিদুর রহমান প্রমুখ।

 মন্ত্রী ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর এমপি গ্রুপ ও আ’লীগ সভাপতি গ্র“পের মধ্যে শুরু হয় বাকবিতন্ডা। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রুপ নেয়।


মন্ত্রী ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর এমপি গ্রুপও আ’লীগ সভাপতি গ্র“পের মধ্যে শুরু হয় বাকবিতন্ডা। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রুপ নেয়। এ ঘটনায় এমপি গ্রুপের মাহফুজার রহমান ফিলিপস আহত হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আনছার আলী মিন্টু বলেন, জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যানকে অতিথি করায় মূলত: মন্ত্রী অনুষ্ঠান বয়কট করেন। তিনি আরও জানান, তাকে আমন্ত্রণের বিষয়ে আমাকে জানায়নি ইউএনও। সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আনছার আলী মিন্টু বলেন, আমার বক্তব্য চলাকালে এমপি গ্রুপের ওই ব্যক্তি আপত্তিকর কথা বললে আমার নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়। মন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থল বর্জন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল হক প্রধান কোন মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা এ অনাকাঙ্খিত ঘটনার বিষয়ে বলেন, জামায়াত সমর্থিত অতিথি এনে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুষ্ঠান ভন্ডুল করা আর সংঘর্ষের ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা বলে আমার মনে হয়। তিনি আরও জানান, কিছুদিন আগেও স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে তাদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়েছিল।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ